Fenugreek benefits (মেথির উপকারিতা) – প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থতার রহস্য
Fenugreek benefits (মেথির উপকারিতা) প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চা এবং রান্নার মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে মেথির বীজ। গ্রামে শাক হিসেবেও খাওয়া হয় মেথির পাতা। সুগন্ধের জন্য অনেকেরই পছন্দ পাঁচফোড়নের অন্যতম এই উপাদান মেথি। কিছুটা তেতো স্বাদের এই বীজে আছে অসাধারণ সব পুষ্টিগুণ। উচ্চরক্তচাপ কমাতে জাদুকরি ভূমিকা পালন করে মেথি ভেজানো পানি। শুধু তা–ই নয়, নিয়মিত মেথি ভেজানো পানি খেলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত হবে। মেটাবলিজম ভালো থাকলে সহজে ওজন বাড়ে না।
ভারতীয় উপমহাদেশে বহু বছর ধরেই মেথির বীজ ভেজানো পানি ডায়াবেটিস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও কোষ্ঠকাঠিন্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মেথির বীজে আছে গ্লুকোমেনান নামক ফাইবার, যা খাদ্যের সঙ্গে গ্রহণকৃত চিনি অন্ত্রে শোষণপ্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে। এ ছাড়া এতে থাকা বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিনমুক্ত করতে সাহায্য করে।
মেথির বীজ ভেজানো পানি তৈরি করতে দুই চা–চামচ বীজ ভালোভাবে ধুয়ে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে এই পানি ছেঁকে অল্প অল্প করে পান করুন।
মেথির পুষ্টিগুণ
মেথির বীজে রয়েছে –
- আয়রন
- ম্যাগনেশিয়াম
- ভিটামিন B6
- ফাইবার
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান
এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
মেথির ৭টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা
১. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
মেথিতে থাকা গ্যালাক্টোমানান নামক দ্রবণীয় ফাইবার রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন খালি পেটে মেথির ভেজানো পানি পান করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
২. হজম শক্তি বাড়ায়
মেথির ভেজানো পানি গ্যাস্ট্রিক, অম্বল ও পেটে গ্যাসের সমস্যা দূর করে। এতে পাচনতন্ত্র সক্রিয় থাকে ও হজম ভালো হয়।
৩. চুল ও ত্বকের যত্নে কার্যকর
মেথির বাটা পেস্ট মাথায় লাগালে খুশকি ও চুল ঝরা কমে। ত্বকে ব্যবহার করলে ব্রণ কমে ও উজ্জ্বলতা বাড়ে।
৪. বুকের দুধ বাড়াতে সাহায্য করে
গর্ভধারণ পরবর্তী মায়েদের জন্য মেথি খুবই উপকারী। এটি প্রাকৃতিকভাবে স্তন্যদুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৫. ওজন কমাতে সহায়ক
মেথি ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে এবং বিপাকক্রিয়া বাড়ায়, ফলে ওজন কমাতে সহায়ক হয়।
৬. রক্তে কোলেস্টেরল কমায়
মেথি নিয়মিত খেলে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
৭. মাসিকের সমস্যা দূর করে
মেথির প্রাকৃতিক গরম গুণের কারণে পিরিয়ডজনিত ব্যথা ও অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
কীভাবে মেথি খাওয়া উচিত?
- মেথি ভেজানো পানি: এক চামচ মেথি এক গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে পানি পান করুন।
- মেথি চা: গরম পানিতে কিছু মেথি দিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে পান করুন।
- মেথি গুঁড়া: শুকনো মেথি গুঁড়া করে প্রতিদিন আধা চামচ করে হালকা গরম পানির সাথে খেতে পারেন।
সতর্কতা:
- অতিরিক্ত মেথি সেবনে গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে।
- গর্ভবতী নারীরা মেথি গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
উপসংহার
মেথি একটি সহজলভ্য এবং প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ থাকার দারুণ একটি উপাদান। নিয়মিত সঠিক পরিমাণে মেথি গ্রহণ করলে অনেক শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। তবে যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিমিতি জ্ঞান জরুরি।